মেনু নির্বাচন করুন

দর্শনীয় স্থান

অনুসন্ধান করুন

# শিরোনাম স্থান কিভাবে যাওয়া যায় যোগাযোগ
দর্শনীয় স্থান

১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হাবিবুর রহমান, মা মালেকা বেগম। ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৭ সালে। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালকে ১৯৭১-এর মার্চের মাঝামাঝি সময়ে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে তাকে চতুর্থ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সদর দফতর ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে বদলি করা হয় এবং সেখান থেকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সাহস, বুদ্ধি ও কর্মতৎপরতা দেখে মেজর শাফায়াত জামিল তাকে যুদ্ধকালীন সময়েই মৌখিকভাবে ল্যান্সনায়েকের দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। সে অনুসারে মোস্তফা কামাল ১০ জন সৈনিকের সেকশন কমান্ডার হন। ১৭ এপ্রিল সকাল থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দরুইন গ্রামে অবস্থানরত চতুর্থ রেজিমেন্টের ২নং প্লাটুনের ওপর মর্টার ও আর্টিলারি দিয়ে আক্রমণ চালায়। চারদিন ধরে ক্ষুধার্ত সেকশন কমান্ডার মোস্তফা কামাল ট্রেঞ্চের ভেতরে এলএমজি হাতে অতন্দ্র, অনড় আর অবিচলভাবে শত্রুদের মোকাবেলা করে যায়। তাকে দেখে সহযোদ্ধারা আরও আত্মবিশ্বাস পেয়ে লড়ে যায়। ১৮ এপ্রিল দুপুর থেকে শত্র“ সেনারা আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর দিক দিয়ে দরুইন প্রতিরক্ষা ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এরকম অবস্থায় কৌশলগত কারণে পশ্চাৎপসরণ করা ছাড়া কোন গন্তব্য নাই। দরুইন প্রতিরক্ষা ঘাঁটির শুধু পূর্ব দিকটি ছিল শত্রুমুক্ত। সেদিক দিয়ে সৈনিকদের নিরাপদে যেতে হলে কাউকে এলএমজি দিয়ে কভারিং ফায়ার করতে হবে। মোস্তফা কামাল সহযোদ্ধাদের নিরাপদে যাওয়ার জন্য নিজেই কভারিং ফায়ার শুরু করেন। একে একে যুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরক্ষা ঘাঁটি থেকে নিরাপদে পৌঁছে তাকে চলে আসতে বলে। কিন্তু তার অবস্থান থেকে সরে যাননি কারণ, তিনি কভারিং ফায়ার বন্ধ করে পেছনে সরলেই শত্র“রা বুঝে নিবে তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। তিনি ট্রেঞ্চের ভেতরেই দাঁড়িয়ে থেকে ক্রমগত গুলি চালাতে চালাতে এক সময় শত্র“র গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে ঢলে পড়েন। গঙ্গাসাগর ও দরুইন অধিকার করে পাকবাহিনী সে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। স্থানীয়রা ট্রেঞ্চের কাছে গিয়ে দেখতে পায় বুলেটে ঝাঁঝরা এবং বেয়নেট বিদ্ধ মোস্তফা কামালের মৃতদেহ। বোঝা যায় শত্রুরা যখন ট্রেঞ্চে প্রবেশ করে, তখনও মোস্তফা কামালের দেহে প্রাণ ছিল। বর্বর হায়নারা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। গ্রামবাসী ওই গ্রামেই তাকে সমাহিত করেন। ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজীপুর গ্রামে ছিল মোস্তফা কামালের বাড়ি। ১৯৮২ সালে মেঘনার ভাঙন বাড়িটি কেড়ে নেয়। তখন তার পরিবার ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে চলে আসে। সেখানেই সরকার শহীদ পরিবারকে ৯২ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেয়। নির্মিত পাঁকা ভবনটির নাম রাখা হয়েছে শহীদ স্মরণিকা। ভবনটির সামনেই আছে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার।

ভোলা সদর থেকে বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল যাদুঘর।

আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রিক্সা যোগে কিছুদুর পরই বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল যাদুঘর। ভাড়ার হার ১৫-২০ টাকা (রিক্সা যোগে)।

ভোলা সদর থেকে বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল যাদুঘর।